আজ সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন


জৈন্তাপুরে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন ভূমি কমিশনার

জৈন্তাপুরের ভূয়া লীজের মাধ্যমে ৩লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ সহকারি কমশিনার (ভূমি) তদন্তে উপজেলা নির্বাহী

গোলাম সরোয়ার বেলাল, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি-
জৈন্তাপুর চিকনাগুল বাজারের ইজারার ভূয়া কাগজ পত্রের মাধ্যমে খাস কালেকশন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা। জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। টাকা গ্রহনের কথা অস্বীকার সহকারি কমিশনারের। আইননি ব্যবস্থায় নির্বাহী অফিসার।
ইজারাদার সূত্রে জানাযায়- জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জৈন্তাপুর উপজেলা হতে বদলী হওয়ার প্রাক্কালে শেষ কর্ম দিবসে উপজেলার চিকনাগুল গরুর হাট লীজ প্রদান করে। যার স্মারক নং- ৩১.৪৬.৯১৫৩.০০০.০৪.০৮.১৮-৫৪৪, তারিখ ৩১ মার্চ-২০১৯খ্রিঃ। সহকারী কমিশনার(ভূমি) মুনতাসির হাসান পলাশ স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জৈন্তাপুর উপজেলাধীন চিকনাগুল গরুর হাটটি সরকারের নিয়ন্ত্রনে ১৪২৬ বাংলা সন হতে খাস আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আপনার ১৪ মার্চ-২০১৯ ইং তারিখের দাখিলকৃত আবেদনটি বিবেচনায় আনা হয়েছে। আপনাকে শুধুমাত্র ১৪২৬ বাংলা সনের খাস আদায়ের সময়ের (৩০ চৈত্র ১৪২৬/ ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত) জন্য নি¤œ তফসীলভূক্ত হাট‘টি রক্ষণাবেক্ষন এবং খাস আহরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নিমিত্তে আপনাকে অনুরোধ করা হলো।
উক্ত পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় চিকনাগুল ঠাকুরের মাটি গ্রামের বাসিন্দা মৃত ছমর আলীর পুত্র মোঃ মছদ্দর আলী পহেলা বৈশাখ রবিবার বাজারের খাস কালেকশন করতে যান। অপরদিকে ইউনিয়ন পরিষদ হতে খাস কালেকশনের দাবীদাররা বাঁধা দেয়। খাস কালেকশন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ মাঈনুল জাকিরকে সংবাদ দেন। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। ১৫ এপ্রিল সোমবার দুপুর ১২টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে চিকনাগুল গরুর হাটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের জন্য জরুরী বৈঠক কালে ভূমি অফিসের যাবতীয় রেকর্ডপত্র যাছাই করে প্রাথমিক তদন্তে লীজ গৃহিতার কাগজপত্র ভূয়া ও মিথ্যা প্রমানিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিম জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে তিনি বিষয়টি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে উপস্থিত লীজ গৃহিতা মোঃ মছদ্দর আলী দাবী করছেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) মুনতাসির হাসান পলাশের স্বাক্ষরীত লীজের কপি ও ৩লক্ষ টাকার প্রাপ্তি স্বীকার পত্র উপস্থাপন করলে স্বাক্ষর গড়মিল থাকায় আমলে নেননি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তবে ইজারাগ্রহীতা আরও জানান ৩লক্ষ টাকা গ্রহনের সময় কাজপত্র তৈরীতে ন্যাশনাল সার্ভিসের আনসার ভিডিপি অফিসে কর্মরত চিকনাগুল ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার আলীর পুত্র সোহেল আহমদ, উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারি শর্ম্মা বাবু উপস্থিত ছিলেন। ভূমি অফিসে অর্থ লেনদেন করার সময়ে উপস্থিত থাকার কথা সোহেল আহমদ বৈঠকে স্বাকারোক্তি দিয়েছেন। টাকা গ্রহন ও লীজের কাগজ তৈরী এবং নিজ নামে স্বাক্ষর প্রদানের বিষয় সাবেক সহকারী কমিশনার(ভূমি) মুনতাসির হাসান পলাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ জানান, ইউনিয়নের অভ্যন্তরে অবস্থিত একমাত্র হাটটির টোল আদায় করতে অতীতের মত ১৪২৬ বাংলা সনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের গত ১৫ মার্চ ২০১৯ইং তারিখের পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাজারের লীজ প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসন, সিলেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জৈন্তাপুরকে লিখিত ভাবে অবগত করেছেন।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিম জানান- এলাকার আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে গরুর হাটটি খাস আদায়ের জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হয়নি। যে বা যাহারা ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাজারের লীজ বুঝিয়ে দিয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং চিকনাগুল বাজারকে সরকারী তালিকাভূক্ত করতে জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।