আজ রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০২:৩৬ অপরাহ্


শাহজাদপুরে ধর্ষিতা গৃহবধূ দ্বারে দ্বারে ঘুড়ছে সন্তানের পিতৃ পরিচয়ে

আমিনুল ইসলাম হিরো, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রেশমবাড়ী নতুনপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী ৩ লম্পটের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে জোর পূর্বক নৌকায় তুলে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ধর্ষণের বিষয় প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদান করারও অভিযোগ উঠেছে এলাকার প্রভাবশালী এই তিন লম্পটের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, ওই ধর্ষণের ঘটনায় গর্ভবতী হওয়া ভিকটিম দোলন খাতুন অবশেষে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে। স্বামী দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনে থাকার পরও সন্তান প্রসব করায় তার সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবি জানিয়েছে গৃহবধূ দোলন খাতুন। দোলন, তার পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রেশমবাড়ি নতুনপাড়া গ্রামের মৃত আফসার প্রামানিকের ছেলে ইউনুস আলীর সাথে একই উপজেলার বাড়াবিল গ্রামের মান্নান বিশ্বাসের মেয়ে দোলন খাতুনের ৯/১০ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে নীরব (৮) এবং হাবিব (৫) নামের দুটি পুত্র সন্তান আছে। ইউনুস জীবিকার প্রয়োজনে প্রায় আড়াই বছর হলো মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছে। ইউনুসের অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী হাজী তয়জাল ফকিরের ছেলে লিটন মিয়া (২৩), মৃত আফসার প্রামানিকের ছেলে ইয়াছিন (২৫), মৃত আব্দুর রহমান ফকির ওরফে রাহু ফকিরের ছেলে স্বপন ফকির (২৫) এই ৩ লম্পট মিলে গত ৩০/০৮/২০১৮ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে দোলন খাতুন ঘরের বাহিরে গেলে তাকে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে গ্রাম থেকে একটু দূরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে দোলন অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে ওই গভীর রাতেই বাড়ি পৌঁছে দেয় প্রতিবেশী অভিযুক্ত ৩ ধর্ষক। এ সময় ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় ওই ৩ লম্পট। একদিকে জীবননাশের হুমকি, অপরদিকে স্বামী বিদেশ থাকা স্ত্রী হিসেবে লোকলজ্জার ভয় এই দুই বিবেচনায় প্রথম পর্যায়ে গৃহবধূ দোলন খাতুন বিষয়টি কাউকেই বলে না। কিন্তু গর্ভাবস্থা যখন একেবারেই প্রকাশ পেয়ে গেছে তখন সে ঘটনাটি ফাঁস করে দেয়। এ নিয়ে দোলনের স্বামীর পরিবার ও পিতার পরিবার ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সামাজিক বিচার দাবি করলেও ধর্ষকরা ও তাদের অভিভাবকরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় আজকাল করে অবশেষে আর বিচার দেয়নি। এদিকে, গত ৮ মে -২০১৯ তারিখ বুধবার রাতে দোলন খাতুন তার পিত্রালয়ে একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান প্রসব করেছে। দোলনের স্বামী আড়াই বছর যাবৎ দেশের বাইরে থাকার কারণে এ সন্তানের জনক সে নয়। এখন জনমনে প্রশ্ন এই সন্তানটি কার ? এই নিষ্পাপ শিশুর পিতাই বা কে ? এদিকে এই সন্তানটির পিতৃ পরিচয় কী হবে তা নিয়ে উভয় পরিবার, এলাকাবাসী এবং সর্বোপরি দোলন খাতুনের মনেও একই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দোলন খাতুন তার সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবি জানিয়ে এ প্রতিবেদকের কাছে অঝর নয়নে কেঁদেছে। এলাকাবাসী এবং সুধীজনের অভিমত, হোক জোরপূর্বক ধর্ষণ বা হোক পরকিয়া ধর্ষণ, যাই বলি না কেন ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে অবুঝ শিশুটির পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে অভিযোগ দিলে ডিএনএ টেস্ট সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে ধর্ষকদের সাথে সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বর আব্দুল কুদ্দুসকে মাধ্যম করে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, ধর্ষকরা কেউ নিজে আবার কারো কারো অভিভাবক পরে কথা বলবো এ বলেই ফোন কেটে দেন। তবে, ঘটনায় জড়িত নয় এমন কোন বক্তব্য তারা কেউই দেয়নি।