আজ সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৬:১৩ অপরাহ্


রমজান এখনো আসেনি

রমজান মাস আসছে নিজের কাছে কেন জানি একটু আনন্দ লাগতেছে। আর সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় সকল রোজাদারের কাছেই তো আনন্দ লাগে তাই না? রমজানের চাঁদ দেখার পর আনন্দটা আরও বেড়ে গেল। এরপর তারাবির নামাজ পড়ে রুমে এসে শুয়ে পড়লাম কারণ ভোররাত্রে তো সেহরি খেতে উঠতে হবে। সেহরি খেয়ে ফজরের নামাজ পড়ে আবার শুয়ে কিছুক্ষণ ঘুমালাম। এমনিতেই প্রথম রমজানটা কেটে গেল। ২য় রমজানের দিন বেলা ১১ টার দিকে দেখলাম আমাদের পাশের বাড়িতে ছাদের ঢালাই চলছে। ভাবলাম একটু গিয়ে দেখে আসি। সেখানে গিয়ে দেখলাম আমার ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু সেখানে কাজ দেখিয়ে দিচ্ছে। ও মা! ছাদে উঠে দেখি কাজের কন্ট্রাক্টর সাহেব সিগারেট টেনে টেনে মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের করছে। পাশে দেখি অন্যরা যে যা পারছে তা খাইতেছে। কিছুক্ষণ পরে আমাদের বাজারে গিয়ে একটি বন্ধ দোকানের সামনে বসলাম। দেখি একদল শ্রমিক নাস্তা খেতে দোকানে যাচ্ছে। একজন বলে উঠল কি ভাই আপনারা কোথায় জান? তারা বলছে কাজ করছি তো ভাই পেটে ক্ষুধা লাগছে এখন নাস্তা খেতে যাই। এ তো কষ্টের কাজ তাই রোজা থাকতে পারিনা। রমজান মাস ছাড়া অন্যান্য মাসে খাবার দোকান গুলো যেভাবে খোলা থাকে রমজান মাসে দেখি সেভাবেই খোলা রয়েছে। আমিতো অবাক। ৫ম রমজানে বেলা ১২ টার দিকে আমাদের মাদ্রাসার সামনে একটি বন্ধ দোকানের সামনে বসলাম। এবার দেখলাম একজন লোক মাঠ থেকে খুব তাড়াহুড়ো করে দোকানের কাছে আসলেন, এসে দেখেন দোকানটি বন্ধ। তখন উনি একটু অস্থির হয়ে গেলেন। জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে আপনার? উনি বলছে মাঠে ট্রাক্টর চলছে, ট্রাক্টরের ড্রাইভারের জন্য নাস্তা নিতে আসছি। আমার সাথের একজন জিজ্ঞেস করলো ট্রাক্টরের ড্রাইভার কি রোজা রাখে নাই? রোদে কাজ করে তো তাই রোজা রাখতে পারেনা। রমজানের ১২ তম দিনে এক বাড়ির উপর দিয়ে যাচ্ছিলাম দেখি একদল মহিলা গুল করে বসে আমের আচার খাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনারা রোজা থাকেন না? মহিলারা বলে ধানের কাজ করিত তাই আজ আমরা রোজা থাকতে পারিনি। কাল থেকে থাকবো। গেলাম আমাদের উপজেলা সদরে, গিয়ে দেখি সেখানে যে যার মত চা-নাস্তা করতেছে। রমজান মাস যে চলতেছে তা আমি সেখানে অনুভব করতে পারলাম না। এরপর আমি আমার রুমে এসে বসে বসে ভাবলাম আমি রোজাদার কিন্তু চারদিকে তাকালে মনে হয় এখনো রমজান মাস আসেনি। কয়েক বছর আগে রমজানের শেষের দিকে আমি খুব অসুস্থ ছিলাম। ডাক্তার দেখাতে গেলাম হসপিটালে, ডাক্তার বলল-আপনাকে কিছু খেতে হবে। আমি বললাম না, আমি রোজা রেখেছি। উনি বলল- কছিু না খেলে তো চিকিৎসা করতে পারবোনা। বাধ্য হয়ে একটি দোকানের ভিতর নাস্তা খেতে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি অনেক লোক নাস্তা করতেছে। এরপর আমি কেটা চা ও একটা বিস্কুটের অর্ডার করলাম। যখন বিস্কুট মুখে দিলাম এ সময় দেখি মাথায় টুপি, পাঞ্জাবি-পাজামা পড়া এক লোক আসলো। আমি তো ওনাকে দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। মনে মনে ভাবতেছি নাকি এখন মার খেতে হয়। কিন্তু না, যা মনে মনে ভাবছিলাম তা না। ওনি মাথা থেকে টুপি খুলে একটা সিগারেট টানতে শুরু করলেন। আমি তখন বোকার মত লোকটার দিকে তাকিয়ে থেকে দোকান থেকে বের হয়ে আসলাম। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুক। আমিন।।

লেখক পরিচিতি:
সাইফুল ইসলাম (সুমন)
শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী
মেঘদাইর তাহেরীয়া ফাজিল মাদ্রাসা
কচুয়া, চাঁদপুর।