আজ বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১১:৩৪ অপরাহ্


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গুলি করে হত্যা মামলায় ৩০ জন নেতাকর্মী জেলহাজতে।

 

আকাশ খাঁনঃ ঈশ্বরদী (পাবনা) 

১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্য ট্রেনে গুলি করা মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির দিনে ৫২ জন আসামীর স্হলে ৩০ জন বিএনপি নেতাকর্মী উপস্থিত হওয়াতে ওই ৩০ জনকে জামিন বাতিল করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। আগামীকাল সোমবার (১ জুলাই)পুনরায় যুক্তিতর্ক ধার্যের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ রোববার (৩০ জুন) সোয়া ১২ টায়
স্পেশাল ট্রাইবুনালের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলীর নিকট জামিনের আবেদন করলে তিনি জামিন নামঞ্জুর করে ৩০ জনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এবং অনুপস্থিত ৫ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন

পাবনা জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী ও ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট আকরামুজ্জামান মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন,
এই মামলায় মোট আসামী ৫২ জন। যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আজ রবিবার (৩০ জুন) দিনধার্য ছিল। ৫২ জনের স্হলে ৩০ জন উপস্থিত হলে বিজ্ঞ বিচারক ওই আসামীদের জামিন বাতিল করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এ্যাডভোকেট গোলাম হাসনায়েনসহ আইনজীবীরা। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, খন্দকার মাসুদসহ আইনজীবীরা। সোমবার হতে শুরু হওয়া যুক্তিতর্ক শেষে যে কোন দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হবে।

জেল হাজতে প্রেরণকৃত উল্লেখযোগ্য আসামীদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপি নেতা,এ কে এম আক্তারুজ্জমান আকতার, সাহাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু,ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আজিজুর রহমান শাহীনসহ নেতাকর্মীরা।
চাঞ্চল্যকর এই মামলার প্রধান আসামি ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু , বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু এবং অন্যতম আসামি পৌর এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবীর দুলাল আদালতে হাজির না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে রেলপথে খুলনা হতে ঈশ্বরদী হয়ে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ট্রেনটি প্রবেশের মূহুর্তে ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ করা হয়। ষ্টেশনে ট্রেনবহর যাত্রাবিরতি করলে আবারো হামলা হয়। এ ঘটনায় দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে শেখ হাসিনা দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন।পরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদি হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর পুলিশ মামলাটি পুনঃতদন্ত করে। তদন্ত শেষে নতুন ভাবে ঈশ্বরদীর শীর্ষস্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়। মামলাটি দায়েরের পর বছরে এই মামলায় পুলিশ কোন স্বাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্টও দাখিল করে। কিন্তু আদালত সে রিপোর্ট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে পাঠান। পরে সিআইডি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলা নম্বর এসটি ৪২/৯৭।
প্রথম চার্জশিটের ৭ আসামির বাইরে এ মামলায় যাদের নতুনভাবে ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র শামসুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বিশ্বাস, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক কে.এম.আক্তারুজ্জামান আক্তার, পাকশীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সাহাপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, রেজাউল করিম শাহীন, সাংবাদিক আজিজুর রহমান শাহীন,সাংবাদিক সেলিম আহমেদ, পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা ইসলাম হোসেন জুয়েল, শহীদুল ইসলাম অটল, আব্দুল জব্বার প্রমুখ। আসামিদের মধ্যে গত ২৫ বছরে ওসিয়া, আলী আজগর, খোকন, তুহিন ও আলমগীরসহ ৭ জন ইতোমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকী জানান, আদালত থেকে গ্রেফতার এর নির্দেশনা এখনো পায়নি। নির্দেশনা পেলে বাঁকি আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।