আজ রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন


ঘাটাইলে যুদ্ধপরাধীর ছেলে রসুলপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি

একাত্তরে যারা আ’লীগকে চিরতরে মুছে দিতে সরাসরি দেশ স্বাধীনের বিরোধী ছিল। সেই যুদ্ধপরাধী শান্তি কমিটির মেম্বার আমজাদ আলীর তিন ছেলে সরাসরি জামায়ত বিএনপির সাথে যুক্ত থাকলেও ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম এখন ঘাটাইল রসুলপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি। যার ফলে ঐ ইউনিয়নের আ’লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বার বার মিথ্যা মামলার ফাঁদে পরে পদে পদে নির্যাতিত হচ্ছে। অপরদিকে শুধু আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্যরা সবাই রয়েছেন আরাম আয়েশেই। . ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমদাদ সরকারের পত্রিকায় প্রতিবাদ ও প্রধামন্ত্রি বরাবর সদয় অবগতি পত্র ছাড়াও একাধিক ইউপি সদস্য ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন আ’লীগের বর্তমান কমিটিতে যারা দায়িত্ব পালন করে আসছে তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তাদের পরিবারের কেউ কেউ দেশ বিরোধী কাজে লিপ্ত ছিল। সেদিন যারা পাহাড়ী এলাকায় নিরপরাধ মানুষকে হত্যা, বাড়ী ঘরে অগ্নি সংযোগ ও লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। সেই শান্তি কমিটির মেম্বার সরাবাড়ী গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে (চকচকা শহিদ) বিএনপি জামায়াত মতার্দশের লোক দিয়ে কমিটি সাজিয়ে রসুলপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছে।

এসব বিষয়ে রসুলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোতালেব হোসেন, আব্দুল কদ্দুস, রহিম, সাইফুল ও হারুন জানায় আমরা সকলেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। শহিদুল কখন আ’লীগের সভাপতি হয়েছে আমরা কিছুই জানিনা। তবে হলফ করে বলতে পারি পকেট কমিটিতে যারা আছেন তাদের অনেকেই আওয়ামীলীগের লোক না।

তারা শুধু পরিবার ও জামায়াত বিএনপিকে রক্ষা করতে উপজেলা চেয়ারম্যান লেবুর হাত ধরে দলে অনুপ্রেবেশ করেছে। তারা জোরগলায় আরও বলেন, রসুলপুর ইউনিয়ন আ’লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি শহিদল ইসলাম যুদ্ধাপরাধীর ছেলে হয়েও আওয়ামীলীগ পরিবারে বিয়ে করে ওয়ারিশ সূত্রে আওয়ামীলীগ হয়েছে। কিন্তু তার প্রতিটা কর্মকান্ড দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী। এবং শহিদুলের বড় ভাই তুলা মেম্বার তিনি সরাসরি জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। অপর ভাই শামছু মিয়া বিএনপি থেকে দুইবার সেক্রেটারী পদে নির্বাচন করে হেরে গেলেও কট্টর সমর্থন নিয়ে দলের কাজ করে যাচ্ছে। অপর ভাই খসরু মিয়া সে নিজেও বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। অর্থ্যাৎ পুরো পরিবারটাই আওয়ামী বিরোধী। তারা শুধু খোলস পাল্টাইয়া সুর বদল করে সভাপতির নামে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। তাই শহিদুলের কাছে আওয়ামীলীগ নিরাপদ না বলে তারা জানায়। . শহিদুলের নিজ গ্রাম সরাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক যুবক ও মাটিআটা গ্রামের এক প্রবীন আ’লীগ নেতা জানায়, শহিদুলের কাছে আ’লীগ এখন আতংক। তিনি ইউনিয়নের বিকাশ খুলে থানায় দালালী থেকে শুরু করে জমি দখল, জবর দখল, দরবার সালিসে জরদস্থি করে রায় নেয়া, আড়াল থেকে ফেৎনা সৃষ্টি করে দলের লোকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে মোটা টাকা আদায় করে নেয়া, এবং বিএনপি জামায়ত এর সাথে জোটবদ্ধ হয়ে দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে যে ভাবে অপপ্রচার শুরু করেছে তাতে তাকে অতিসত্তর দল থেকে বহিস্কার না করলে আগামী দিনে রসুলপুর ইউনিয়নের আ’লীগ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে তারা জানান। এ বিষয়ে ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাবা দেশ বিরোধী লোক ছিল, এ কথা সত্য না। বরং মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিত।

ঐ সময় আমার বাবা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করলে আজ সে মুক্তিযোদ্ধা থাকত। তবে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। . এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, রসুলপুর ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল যুদ্ধাপরাধীর ছেলে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে ঐ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের অনেকের সাথে কথা বলে জেনেছি শহিদ যুদ্ধাপরাধীর ছেলে এমন কোন প্রমাণ তাদের কাছে নাই। . এসব বিষয়ে প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা তিন তিনবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু বলেন, সরাবাড়ী গ্রামের আমজাদ আলী একজন যুদ্ধাপরাধী একথা উপজেলার সবাই জানে। তার ছেলে কিভাবে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হয় আমি বুঝি না।

রবিউল আলম বাদল

ঘাটাইল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০