আজ রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ১১:১৭ অপরাহ্


অনুপ্রবেশকারী-ই এখন টাঙ্গাইল জেলা আ.লীগের হর্তাকর্তা

এস এন খান রানা,ঘাটাইল , প্রতিনিধি: শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। ২০১৪ সালের ৫ ই জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাকর্মীরাই আওয়ামীলীগে ঘেষতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করতে আসা এইসব নেতাকর্মীদের আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ ঘটতে থাকে।এরপর শুরু হয় গণহারে অনুপ্রবেশ। গণহারে অনুপ্রবেশের ফলে আদর্শবান ত্যাগী নেতাকর্মীরা দিন দিন কোণঠাসা হতে থাকে। ৫ ই জানুয়ারী নির্বাচনের পরে সারাদেশে আওয়ামীলীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরে অনুপ্রবেশ ঘটেছে।এর মধ্যে টাঙ্গাইলে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশের চিত্র সম্ভবত সবকিছু ছাপিয়ে যাবে। কারণ টাঙ্গাইলের আওয়ামীলীগে ব্যাপক অনুপ্রবেশ ঘটেছে আর অনুপ্রবেশকারীরাই রাতারাতি দলের নীতিনির্ধারক বনে গেছেন। সবথেকে কষ্টের কথা হচ্ছে অনুপ্রবেশকারী -ই দলের দুঃসময়ের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ত্যাগী কর্মীদের মামলা,হামলা নির্যাতনের মাধ্যমে কোণঠাসা করে রেখেছেন। অনুপ্রবেশ করে নীতিনির্ধারক বনে যাওয়া কয়েকজন শীর্ষ নেতার ৫ ই জানুয়ারীর পূর্বের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরছি- ১.জামিলুর রহমান মিরন – পালিত ক্যাডার হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন।এরপর কখনো বি.এন.পিতে সক্রিয় রাজনীতি করেছেন।কাদের সিদ্দিকী নতুন দল গঠন করার পর থেকে সক্রিয়ভাবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের (গামছা) রাজনীতি শুরু করেন।তবে সবসময়ই তিনি আওয়ামীলীগের কট্টর বিরোধী ছিলেন।তার সামনে কেউ ‘জয় বাংলা’ বললে চরম নির্যাতন করতেন।সেটা বার প্রমানীত। টাঙ্গাইলের জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা উদীয়মান আওয়ামীলীগ নেতা শহীদ আমিনুর রহমান খান বাপ্পী,শহীদ শাহেদ হাজারী,আইয়ুব রেজা ডিপটি সহ আরও কয়েকটি হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামী তিনি। টাঙ্গাইলে জননেত্রীর গাড়ি বহরের প্রধান হামলাকারী এই জামিলুর রহমান মিরন। ৫ ই জানুয়ারীর পর লেবাস পাল্টে এখন কালো টাকার বিনিময়ে এখন তিনি জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা।বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র।এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাকে কে আ.লীগে যোগদান করিয়ে জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করলেন?কে তার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিলেন? ২.তানভীর হাসান(ছোটো মনি) – টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে তার উত্থান সবথেকে বেশি চোখে পড়ার মতো। একসময় তিনি ছিলেন কাদের সিদ্দিকীর বিশ্বস্ত ক্যাডার।ভূমি দখল, চাদাবাজী এসবই ছিলো তার রাজনীতি। আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর হত্যা মামলার আসামী তিনি। অর্থের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকে ম্যানেজ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়ে এখন তিনি জাতীয় সংসদের একজন সদস্যও হয়ে গেছেন। ৩.সাইফুজ্জামান সোহেল – তিনিও মুরাদ সিদ্দিকীর একজন বিশ্বস্ত ক্যাডার ছিলেন।একসময় তার ক্যাডার বাহিনীর একটা অংশের নেতৃত্ব দিয়েছেন।আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে সশস্ত্র হামলার অন্যতম প্রধান নেতৃত্বদানকারী। কোনদিন “জয় বাংলা” না বললেও বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইলের আ.লীগের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আ.লীগ সমর্থিত পৌর কাউন্সিলর। ৪.আমিনুর রহমান আমিন ওরফে আমিন ক্যাডার -মুরাদ সিদ্দিকীর সন্ত্রাস বাহিনীর প্রধান ক্যাডার তিনি।টাংগাইলে তিনি আমিন ক্যাডার নামেই পরিচিত। টাংগাইল শহরে ছিনতসি,চাদাবাজী,ভূমি দখল এসবই ছিলো তার পেশা। হত্যা,চাদাবাজী সহ অসংখ্য মামলার আসামী কুখ্যাত এই ক্যাডার ৫ ই জানুয়ারীর পর আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করে এখন নেতা বনে গেছেন। বর্তমানে তিনি টাংগাইল জেলা সি,এন,জি এবং অটোরিকশা শ্রমিক সমিতির আওয়ামীলীগ প্যানেলের সভাপতি এবং আওয়ামিলীগ সমর্থিত পৌর কাউন্সিলর। ৫ ই জানুয়ারী নির্বাচনের পর থেকে টাংগাইলে অসংখ্য অনুপ্রবেশ ঘটেছে।আর বর্তমানে টাংগাইলের আওয়ামী রাজনীতির লাগামও এই অনুপ্রবেশকারীদের হাতে।যেখানে জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের জায়গা গুলোই অনুপ্রবেশকারীদের দখলে সেখানে তৃণমূলের কথা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। আওয়ামীলীগের এই শুদ্ধি অভিযান টাংগাইল জেলা আওয়ামীলীগের অনুপ্রবেশকারীদের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে সেটা দেখা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সুবিধাভোগ করা এইসকল অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বহিষ্কার এবং এদের অনুপ্রবেশ করানোর পেছনে যারা রয়েছেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক এটাই টাংগাইলের তৃণমূল কর্মীদের প্রাণের দাবি। প্রিয় নেত্রীর নির্দেশে ত্যাগী কর্মীরা সুসময় কিংবা দুঃসময় যাই হোক না কেন সর্ব অবস্থাতেই বুক চিতিয়ে রাজপথে নামতে প্রস্তুত।

 

এস এন খান রানা

ঘাটাইল প্রতিনিধি

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০