আজ শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ১২:৩৫ অপরাহ্


কচুয়ায় দীর্ঘকাল ক্ষমতাসীন থেকেও সাদামাটা জীবন যাপন করছেন চেয়ারম্যান ওসমান গণি মোল্লা

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের কচুয়ার ১নং সাচার ইউনিয়ন পরিষদের টানা দু’বার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো. ওসমান গণি মোল্লা। এছাড়াও তিনি টানা ১৬ বছর ধরে সাচার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৮ মে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক আলোচনায় শীর্ষে আসেন। দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সততা ও সুনামের সাথে পালন করায় ইতিমধ্যে তিনি জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে প্রিন্সেস ডায়না স্বর্ণ পদক ঘোষিত হন। বেশ কয়েক বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করলেও একেবারেই সাদামাটা জীবন যাপন করছেন এই মানুষটি।
সাচার ইউনিয়নের রাগদৈল গ্রামের মোল্লা বাড়ীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ওসমান গণি মোল্লা। তার পিতার নাম মৃত: কেরামত আলী মোল্লা। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। ওসমান গণি মোল্লা, শিক্ষা জীবন শেষ (বিএ) করে রাগদৈল আই.এম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে ১৯৮৪ সালে ৩১ মে যোগদান করেন এবং ১৯৯৪ সালের ২৪ অক্টোবর শিক্ষকতা ছেড়ে পাড়িদেন মালোয়েশিয়ায়। ৭ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০০১ সালের ১৩ আগষ্ট দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে সাচার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে ২০১১ সালে ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে প্রথম বারের মতো বিপুল ভোট পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
স্থানীয় অধিবাসী আবদুল করিম, মো. মোবারক হোসেন, মো. আজগর আলীসহ আরো অনেকে জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওসমান গণি মোল্লা আমাদের গ্রামের গৌরব। সততা ও নিষ্ঠার দিক থেকে তিনি ব্যতিক্রম। তিনি কখনো দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা দেন-দরবার করতে গিয়ে কারো কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে এমন বিষয় কারো জানা নেই। অথচ গ্রামের কিংবা ইউনিয়নের কোন লোক মারা গেলে কিংবা কোন অসুবিধায় পড়লে তিনি নিজ অর্থায়নে সহযোগীতা করে থাকেন। একাধিক লোকজন জানান, ওসমান গণি মোল্লা টানা দুবার চেয়ারম্যান ও ১৬ বছর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকেও ভাঙ্গা কুড়ে ঘরে বসবাস করেন। যে গৃহে রাত্রী যাপন করেন সেখানে একটি বালিশ ও পুরানো ভাঙ্গা চকি ব্যতিত আর কিছুই নেই। সারাদিন সমাজ সেবার কাজক্রম শেষ করে রাতের খাবার কখনো খান আবার না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েন এবং এক শার্ট ও একপ্যান্ট পড়ে দিন কাটান।
এলাকাবাসী আরো জানান, ওসমান গণি মোল্লার ব্যাংক ব্যালেন্স কিংবা অর্থকরি নেই। বাবার রেখে যাওয়া বসত ভিটা ছাড়া তার কোন সহায় সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই। ব্যক্তি জীবনে অবিবাহিত থাকলেও তবুও তিনি মনের দিক থেকে একজন সুখী মানুষ হিসেবে সেবা করে যাচ্ছেন ইউনিয়নবাসীর।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ওসমান গণি মোল্লা বলেন, আমি রাজনীতি করি ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে। আমার ব্যক্তি বিলাস কিংবা আরাম আয়াসের জন্য নয়। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করা আমার নেশা ও পেশা হিসেবে পরিনত হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে মানুষ আমাকে ভালোবাসে এটাই আমার জীবনের পরম পাওয়া ও স্বার্থকতা। যত দিন বাঁচবো ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাব। তিনি আর বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপির মাধ্যমে ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট, স্কুল কলেজ ও বাজারের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আসন্ন কাউন্সিলে সাচার ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছি। আমার বিশ্বাস নেতাকর্মীরা আমাকে যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে সভাপতি নির্বাচিত করবেন। নির্বাচিত হলে তৃণমুল ও সাধারণ নেতাকর্মীদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবো। এজন্য তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০