আজ রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ১১:৩২ অপরাহ্


আ’লীগের নতুন কমিটির তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক পদ পাওয়া কে এই সেলিম মাহমুদ

আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ দায়িত্ব পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে তার নাম ঘোষণা করেন।

ড. সেলিম মাহমুদ আশির দশকের শেষ দিকে ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ছাত্রলীগের একজন সংগঠক হিসেবে সমকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্তের পর্যায়ে চলে আসেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালে তাঁকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রথম আইন বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচন করেন। ছাত্রলীগের একজন সংগঠক হিসেবে ১৯৯১ সাল থেকে খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ঐ সময়ে তিনি জননেত্রী ও আওয়ামী লীগের পক্ষে নানা কর্মকা-ে যুক্ত ছিলেন।

ড. সেলিম মাহমুদ একজন আইনজ্ঞ, রাজনৈতিক সংগঠক ও বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি। নব্বইয়ের দশক থেকে ড. মাহমুদ জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পান। তিনি কুখ্যাত ইনডেননিটি অর্ডিন্যান্সের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে প্রথম গবেষণা ভিত্তিক প্রবন্ধ লিখেছিলেন যা ১৯৯১ সালের এপ্রিলে দৈনিক আজকের কাগজে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে কমনওয়েলথ সেক্রেটারীয়েট প্রেরিত ‘স্যার নিনিয়ান মিশন’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা কর্তৃক গঠিত ৪ সদস্যের দলীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি মাননীয় সভাপতিকে প্রয়োজনীয় আইনী ও সাংবিধানিক খসড়া উপস্থাপন করে সহায়তা করেছেন।

ড. মাহমুদের উলেখযোগ্য একাডেমিক সাফলের মধ্যে রয়েছে এসএসসি তে কুমিলা বোর্ডে মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি সম্মান এ প্রথম শ্রেনীতে প্রথম স্থান অর্জন এবং যুক্তরাজ্যের ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জ্বালানী আইন ও পলিসি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন। পিএইচডি গবেষণায় অসাধারণ সাফল্যের জন্য ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে স্পেশাল ডীন’স এওয়ার্ড প্রদান করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএল.বি সম্মানে রেকর্ড পরিমাণ মার্ক সহ প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া সত্বেও ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হওয়ার কারণে তাঁকে এলএল.এম পরীক্ষায় অন্যায়ভাবে প্রথম শ্রেণী না দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম ঘোষণা করা হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা এই অনায়ের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করেছিলেন এবং তিনি এই ষড়যন্ত্রমূলক ফলাফল সংশোধন করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যকে অনুরোধ করেছিলেন। ঐ বছরই (১৯৯৫ সালে) নেত্রীর অনুরোধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে লেকচারার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

পরবর্তীকালে নেত্রীর নির্দেশে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রকটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. মাহমুদ মাননীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় সার্বক্ষণিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নজরদারি রাখতেন এবং সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বৃহত্তর কুমিলার তিনটি জেলার সকল নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য ড. মাহমুদকে (সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে) মাননীয় নেত্রী তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সে সময়ে সাবেক ছাত্রনেতাদের এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এই দায়িত্ব তিনি সুচারুভাবে পালন করেছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে বিভাগের ছাত্র ছিলেন অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ড. সেলিম মাহমুদের উদ্যোগে ২০০০ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করা হয়। আইন বিভাগ তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তাঁরই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় আইন বিভাগে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি ছাত্র বৃত্তি চালু করা হয়েছিলো যা বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো।

২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কর্তৃক দায়িতপ্রাপ্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামীলীগের পক্ষে গণসংযোগ করেন। যুক্তরাজ্যে পিএইচডি গবেষণা কালীন সময়ে জননেত্রীর উপর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ড. মাহমুদ যুক্তরাজ্যে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসমর্থন সৃষ্টির জন্য কাজ করেন। এছাড়া, ১/১১ সরকারের সময় নেত্রীর মুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে জনসমর্থন তৈরিতে কাজ করেন । ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে তিনি নেত্রী কর্তৃক মনোনীত হয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মিডিয়া সেন্টারের একজন সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. সেলিম মাহমুদ গত তিন দশক ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে তাঁর মেধা, আন্তরিকতা, সততা, সাহস ও কমিটমেন্ট দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ের সমন্বয়কারী হিসেবে দলের পক্ষে অক্লান্ত পরিশ্রমসহ বহুমাত্রিক কাজের (ইশতেহার প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়সহ) সাথে যুক্ত ছিলেন।

ড. মাহমুদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মনোনীত হয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইমেজ রক্ষার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতেন। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানী সরবরাহ বৃদ্ধিসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সেক্টরের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী উদ্যোগে রেগুলেটরের পক্ষ থেকে ট্যারিফ সমন্বয়য়সহ অন্যান্য সকল বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতার জন্য তিনি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দক্ষিন এশীয় আন্তঃরাষ্ট্রীয় টাস্ক ফোর্স- সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল ইনিশিয়েটিভ/এনার্জি ইন্টিগ্রেশন এর টাস্কফোর্স সদস্য (২০১৩-২০১৭) হিসেবে দক্ষিন এশিয়ায় জ্বালানী ভিত্তিক আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় জ্বালানী বানিজ্য উন্নয়নে ‘এডভোকেসী’ কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের সদস্য হিসেবে তিনি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর যৌক্তিক ট্যারিফ নির্ধারনের মাধ্যমে সরকারের উপর ভর্তুকির বোঝা কমানো এবং এখাতে ভর্তুকি সংস্কারসহ ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ, ইউটিলিটিগুলোর ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও আর্থিক শৃংখলা প্রতিষ্ঠায় সরকারী উদ্যোগে বিশেষ সহযোগিতা করেন।

একজন আইনজ্ঞ হিসেবে ড. সেলিম মাহমুদের জ্বালানী আইন ও পলিসি, আরবিট্রেশন, সাংবিধানিক আইন, ইনভেস্টমেন্ট আইন এবং কর্পোরেট ও কমার্শিয়াল আইনে বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ড. মাহমুদ ১৯৯৫ সালে তাঁর বাবা কর্তৃক তাঁকে দানকৃত ৩ একর জমিতে চাঁদপুরের কচুয়াতে পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজটি ১৯৯৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এমপিও ভুক্ত করা হয়। কচুয়ার প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার প্রসারে, বিশেষ ভাবে নারী শিক্ষার প্রসারে এই কলেজের বিশেষ অবদান রয়েছে। বর্তমানে এই কলেজে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৫শ।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১