আজ সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৪:৩৯ অপরাহ্


ভারপ্রাপ্তের ভারে ন্যুয়ে পড়ছে কচুয়ার পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের কচুয়ার পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ভারে ন্যুয়ে পড়েছে। ১বছরের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দিলেও পেরিয়ে যাচ্ছে ৫ বছর। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে। স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে যে কোনো সময়ে ফুঁসে উঠতে পারে শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে ডিগ্রি ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. চৌধুরী হাবিবুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ৫টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। যাহা ৩ অক্টোবর ২০১৪ সালের জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক কলেজ কর্তৃপক্ষ উল্লেখিত পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনের জন্য ১২ই ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
এসময় কলেজের সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে পরীক্ষার স্থগিতের দাবিতে বিজ্ঞ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নং-১১৮২১/২০১৪ইং। বিজ্ঞ আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। পরবর্তীতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: বিল্লাল হোসেন মোল্লাকে জৈষ্ঠ্যতা ভঙ্গ করে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি ১জানুয়ারী ২০১৫ সালে ১ বছরের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। কিন্তু এক বছরের দায়িত্ব পালনে প্রায় ৫ বছর অতিক্রম করলেও তার কোনো সুরাহা হয়নি।
একই সময়ে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভাইস প্রিন্সিপাল পদটি শূণ্য রয়েছে। এক দিকে ভাইস প্রিন্সিপাল না থাকায় ও অপর দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনায় করায় বর্তমানে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে ডিগ্রি ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজে ১৩’শ শিক্ষার্থী। ২৮ জন শিক্ষক। পদ শূন্য ছয়টি। পদগুলো হলো অধ্যক্ষ, উপধ্যক্ষ, অফিস সহকারি, লাইব্রেরিয়ান, কম্পিউটার ল্যাব ও অপারেটর ১জন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এইচএসসিতে এই কলেজে পাসের হার ৬০ ভাগ।

জানা গেছে, কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. চৌধুরী হাবিবুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩ অক্টোবর ২০১৪ সালে ৫টি শূন্য পদে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রকিায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক কলেজ কর্তৃপক্ষ উল্লেখিত পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনের জন্য ওই বছর ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য্য করেন। তখন শুরু হয় কূটকৌশল। কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে বিজ্ঞ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নং-১১৮২১/২০১৪ইং। বিজ্ঞ আদালত রিট আবেদনটি আমলে নিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। আর এমন সুযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেনসহ কয়েক শিক্ষক কলেজের নানাদিক দাবড়ে ষোলআনাই খাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষকরা বলছেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন মোল্লা বিধি ভঙ্গ করে কলেজের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানে নিজ নামের পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লেখার নিয়ম। অথচ তিনি সরাসরি অধ্যক্ষ লিখে আসছেন। কলেজ শিক্ষকদের মধ্যে জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে ৫ম স্থানে থাকা সহকারী অধ্যাপক মো: বিল্লাল হোসেন মোল্লা (পরিসংখ্যান) কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় ওই কলেজে সিনিয়র সহযোগী অধ্যাপক পদে মো: ফানাউল্যাহ (বাংলা), মো: ফজলুল হক (পদার্থ বিজ্ঞান), নজরুল ইসলাম (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ও আবুল খায়ের (অর্থনীতি)।

কলেজটির দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রিতে ভর্তি হতে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করেছে। এভাবে ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল বিবরণী ও পরীক্ষার খাতা যাচাই-বাছাই করণ ফি, উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি ভর্তির অতিরিক্ত ফি, উপবৃত্তি ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি সহ নানান ভাবে ফি আদায় করে আসছেন।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: বিল্লাল হোসেন মোল্লা মুঠফোনে বলেন, আমি অধ্যক্ষ পরিচয় দেইনি। তবে আমি প্রিন্সিপাল ইনচার্জ হিসেবে এখানে দায়িত্বে রয়েছি। শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বলেন, ওইসব কলেজ পরিচালনা পর্ষদ দেখবে। আমি কিছু বলতে পারবো না।
কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি মো: আইয়ুব আলী পাটওয়ারী বলেন, বিজ্ঞ আদালতে মামলা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া মামলা জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। আমরা মামলাটি দ্রæত শেষ করে শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করতে চেষ্টা করছি।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ বলেন, অধ্যক্ষ পরিচয় দেয়া ঠিক না। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯