আজ মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৪:৩৪ অপরাহ্


কচুয়ায় অধ্যক্ষের হাতে শিক্ষিকা লাঞ্ছিতের অভিযোগ

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের কচুয়ার পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন মোল্লার হাতে ওই কলেজের প্রভাষক লায়লা আরজুমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাকে অপমান ও লাঞ্ছিত করেন বলে ভূক্তভোগী শিক্ষিকা জানান।
একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন মোল্লার অকথ্য ভাষা ও মানসিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করলে ঘটনাস্থলে লায়লা আরজুমান অচেতন হয়ে পড়ে। তাৎক্ষনিক তাকে উদ্ধার করে কচুয়া ট্রমা হাসপাতালে ভর্তি করেন সহকর্মীরা।
সরেজমিনে জানা যায়, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন মোল্লা হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক লায়লা আরজুমানকে ডেকে কোনো কারন ছাড়াই বভিন্ন বিষয়ে তাকে অকথ্য ভাষা গালমন্দ করেন এবং চাকরি চলে গেলে কী করবেন এমন হুমকিও দেন তিনি। এমন অপমান সইতে না পেরে প্রভাষক লায়লা আরজুমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অচেতন হয়ে পরেন।
খবর পেয়ে কচুয়া ট্রমা হাসপাতালে একদল সাংবাদিক ভিকটিমের ছবি ও বক্তব্য জানাতে চাইলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়ে ওই শিক্ষক সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরন করেন। ওই কলেজের ফিন্যান্স বিভাগের প্রভাষক হাছিনা আক্তার সাংবাদিকদের ক্যামেরা, মোবাইলে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা,তথ্য জানতে বাধা দেন এবং সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি প্রদর্শন করেন।
প্রভাষক লায়লা আরজুমান আরো বলেন, আমাকে বিভিন্ন ভাবে প্রতিনিয়ত অকথ্য ভাষা গালিগালাজ ও মানিসক ভাবে লাঞ্ছিত করছে। আমি নিয়মিত কলেজে হাজির হলেও তারপরও কেন জানি আমার সাথে অসদাচরণ করা হয়।
লায়লা আরজুমানের বাবা বলেন, বিল্লাল মোল্লা প্রতিনিয়ত আমার মেয়েকে অপমান ও লাঞ্ছিত করে আসছে । আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
কলেজ ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, শুধু লায়না আরজুমান নয়,এমন অনেক শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অভিভাবক রয়েছেন তাদের সাথে প্রতিনিয়ত বিল্লাল মোল্লা অসদাচরন করে থাকেন। যা কোনো অধ্যক্ষের কাছে কাম্য নয়। তার কাছে শিক্ষক লাঞ্ছিত আজকাল নিয়মে পরিণত হচ্ছে। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা,সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধাদানকারী শিক্ষিকা হাছিনা আক্তারসহ মূল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন অভিভাবক ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন মোল্লা বলেন, কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার কিছু শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির বিষয়ে ওই শিক্ষার কাছে জানতে চাই। কিন্তু তিনি বিষয়টি বুঝতে না চেয়ে নিজের উপর নিয়ে যান। আমি তাকে কোনো ধরনের ধমক কিংবা গালমন্দ করিনি।
এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষিকা লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে আমি বিষয়টি দেখছি।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯