আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১১:০৫ অপরাহ্


পদ্মা সেতু – প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তনের সূচনা করেছে

বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের মতো বিশ্বমোড়লের প্রলোভন, খবরদারী ও হুমকি উপেক্ষা করে যেভাবে পদ্মা সেতুর মতো এতো বৃহৎ একটি ভৌত কাঠামো নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মাণ করতে পারলেন, এটি শুধু দক্ষিণ এশিয়া কিংবা এশিয়া মহাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে একটি মাইল ফলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বিশ্বব্যাংক কে বাদ দিয়ে নিজের উদ্যোগে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের কি অর্জন হয়েছে আর এর বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক প্রভাব কি- এই বিষয়ে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। মোটা দাগে বলতে গেলে, আমাদের জাতীয় স্বার্থে এই প্রকল্প নিজেদের উদ্যোগে সফলভাবে সম্পন্ন করার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি তথা সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা প্রায় পঞ্চাশ বছর এগিয়ে গেলাম। অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক এর নানা অযাযিত হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এই ধরণের একটি বিশাল কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার কারণে বিশ্বব্যবস্থায়ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। এই ঘটনার ফলে বিশ্বব্যাংক সহ বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর (Multilateral Lending Institutions) বিপরীতে উন্নয়নশীল বিশ্বের দরকষাকষির ক্ষমতা (Bargaining Power) উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমুহে এই বিশ্বমোড়লদের নানামুখী শোষণ আর খবরদারীর (Hegemony) উপর এক বড় ধরণের আঘাত। এর ফলে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রভাব কমতে শুরু করবে। অর্থাৎ শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই রক্ষা করেনি, তাঁর এই অসীম সাহসি সিদ্ধান্ত বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়ও এক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।

আর্থিক ও অর্থনৈতিক, কারিগরি ও ভু-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক নিজস্ব উদ্যোগে পদ্মা সেতু নির্মাণের কারণে চারটি ফলাফল দৃশ্যমান হচ্ছে । ১) নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো এতো বৃহৎ ভৌতকাঠামো সফলভাবে নির্মাণের ফলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে; ২) বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে দারিদ্র বিমোচন, দেশী বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দেশের উন্নয়নকে আভ্যন্তরীনভাবে সকল অঞ্চলে সুষম বণ্টনসহ দেশের সামষ্টীক অর্থনৈতিক (Macro economy) উন্নয়নে এই সেতুর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা থাকবে; ৩) সেতু নির্মাণ, এর মালিকানা ও পরিচালনায় বিদেশী নির্ভরতা না থাকায় জাতীয় স্বার্থ সমোন্নীত হয়েছে; ৪) বাংলাদেশের এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়ন হয়েছে এবং ৫) শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর সকল উন্নয়নশীল দেশ, এমনকি উন্নত বিশ্বের কিছু দেশও বৃহৎ ভৌত কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন বিদেশী রাষ্ট্র কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার উপর নির্ভরশীল ছিল। ইতোপূর্বে নির্মিত বাংলাদেশের সকল বৃহৎ ভৌত কাঠামোই বিভিন্ন বিদেশী উন্নয়ন সহযোগীর সহায়তায় এবং কখনও কখনও তাদের অংশীদারিত্তে সম্পন্ন হয়েছে। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই প্রথম বাংলাদেশ কোন উন্নয়ন সহযোগীর সহায়তা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এবং অর্থায়নে একটি বিশ্বমানের ভৌত কাঠামো নির্মাণ করলো।

বৃহৎ সেতুর মতো ভৌত কাঠামো নির্মাণ ও এর মালিকানার বিষয়ে বিগত তিন দশক ধরে পৃথিবীর অনেক দেশেই নিজস্ব অর্থায়ন ও মালিকানার পরিবর্তে দেশী-বিদেশী বেসরকারি বিনিয়োগকারীর অর্থায়ন এবং ভৌত কাঠামো গুলোতে তাদের মালিকানাই রাখা হয়। এই ভৌত কাঠামো গুলোতে রাষ্ট্রীয় কোন মালিকানা থাকেনা । মুলত BOO (Build Own and Operate) এবং BOT (Build, Own and Transfer) এই দুই পদ্ধতিতে এই ধরণের বৃহৎ ভৌত কাঠামো নির্মাণ, এর মালিকানা, পরিচালনা ইত্যাদি বিষয় নির্ধারিত হয় । পৃথিবীর দেশে দেশে সরকারের সীমিত আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতার কারণেই এই সকল পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে ভৌত কাঠামোতে রাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না । এই ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই জনসাধারণ ও ভোক্তা গণের পক্ষে প্রকৃত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিকুলতার সৃষ্টি হয়। এই পদ্ধতিতে ক্ষেত্র বিশেষে জাতীয় স্বার্থও বিপন্ন হওয়ার আশংকা থাকে। শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্মিত পদ্মা সেতুর উপর কেবল বাংলাদেশেরই মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এই সেতুর উপর কোন বিদেশি কর্তৃপক্ষের কোন মালিকানা বা কর্তৃত্ব থাকবে না। চীন শুধু ঠিকাদারি কাজ করছে; দেশের দুই প্রান্তের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর উপর চীনসহ কোন বিদেশী কর্তৃপক্ষের কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিশ্ব ব্যাংকের জন্ম ১৯৪৪ সালে হলেও মুলত আশির দশক থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনীতিতে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে আসছে। বিশ্ব ব্যাংক মুলত তাদের Structural Adjustment Programme এর মাধ্যমে তৎকালীন তৃতীয় বিশ্বে তাদের এক ধরণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এটি অনস্বীকার্য যে, বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলো বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যেই মুলত কাজ করছে। এক্ষেত্রে তাদের অনেক ইতিবাচক ভুমিকাও রয়েছে। তবে এটি ভুলে গেলে চলবে না, পৃথিবীর অনেক দেশেই এই সকল উন্নয়ন সহযোগীদের প্রেসক্রিপশনে সেদেশের জনগণ উপকৃত হয়নি; এর সুবিধাভোগী হয়েছে অন্য পক্ষ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সকল উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শ কিংবা অংশীদারিত্ত সংশ্লিষ্ট দেশের স্বার্থ বিরোধী ছিল। যেমন, ১৯৯৮ সালে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল, সরকার যাতে ২০০১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গ্যাস রপ্তানি শুরু করে। এই পরামর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক নানামুখী কৌশল অবলম্বন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্বার্থে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত সেটি করতে দেননি। পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসে দেশ বিরোধী এই পরামর্শ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল, যদিও জননেত্রী শেখ হাসিনার জোরালো বিরোধিতার কারণে খালেদা জিয়া এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে নি।

২০১১ সালের জুন এবং ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সরকারের এক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে আমি ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে বিশ্বব্যাংকের সাথে সভা করেছিলাম যা মুলত দুই পক্ষের মধ্যে দরকষাকষির সভা ছিল। এ ছাড়াও বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সাথে আমাদের বিভিন্ন সময়ে সভা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, বিশ্বব্যাংক বরাবরই ঋণ/সহায়তা গ্রহণকারী দেশগুলোর প্রকৃত কল্যাণের চেয়ে নিজেদের মতামত চাপিয়ে দিতেই বেশি আগ্রহী। তাদের সিদ্ধান্ত সেই রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক কিনা সেটি তারা দেখতে আগ্রহী নয়। তাদের নীতিমালার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতেই তারা বেশি আগ্রহী। বিভিন্ন দেশে তাদের খবরদারী (Hegemony) প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেক সময় তারা স্ববিরোধী অবস্থানও নেয়। অনেক সময় তারা রাজনৈতিক ও ভু-রাজনৈতিক এজেণ্ডা নিয়ে নামে। পৃথিবী ব্যাপি অনেক গবেষণায় উন্নয়ন সহযোগীদের এই ভুমিকা প্রমানিত হয়েছে। এমনকি বিশ্ব ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি বর্গের মধ্যে কেও কেও (যেমন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্টিগলিটস ) তাদের লেখায় এটি তুলে ধরেছেন।

বিশ্ব ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা করেছিলো। ১৯৯৮ সালের বন্যার সময় তারা ভবিষ্যৎবাণী করেছিলো, বাংলাদেশে দুই কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে ঐ ভয়াবহ বন্যায় একটি মানুষও না খেয়ে মরে নি। ২০০৯ -১০ সালে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যখন দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ও জোরালো ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিলেন, তখন বিশ্বব্যাংক বলেছিলো ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলো থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে গিয়ে দেশের ম্যাক্রো ইকোনমি ধসে পড়বে। তাদের সেই ভবিষ্যৎ বাণীকে আমরা ভুল প্রমান করেছিলাম। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতসহ সকল খাতে শেখ হাসিনার সাহসী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিস্ময়করভাবে উন্নতি লাভ করেছে।

পদ্মা ব্রিজ নিয়ে বিশ্বব্যাংক কতো কিছুই না করলো। তারা দুর্নীতির কথা বলে এই প্রকল্পে প্রতিশ্রুত অর্থায়ন বন্ধ রাখলো। পদ্মা ব্রিজের পাশাপাশী দুটি বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (বিবিয়ানা ১ এবং বিবিয়ানা ২ প্রকল্প) নির্মাণ প্রকল্পেও বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে তাদের প্রতিশ্রুত ঋণ প্রত্যাহার করলো। এই প্রকল্প দুটিতে তাদের অনেক আগ্রহ ছিল। শুধু তাই নয়, আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করলো। এদেশের কিছু কুলাঙ্গার বাংলাদেশ যাতে বিশ্ব ব্যাংক থেকে প্রতিশ্রুত ঋণ না পায়, তার জন্য অনেক অপপ্রচার করলো। তারপর এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ঋণ প্রত্যাহারের বিষয় নিয়ে কতোই না মায়াকান্না করলো তারা । তারা এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করলো এতে দেশের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। পরে কানাডার আদালতে প্রমাণিত হলো পদ্মা ব্রিজ প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। বিশ্বব্যাংকের ঋণের তোয়াক্কা না করে শেখ হাসিনা আমাদের নিজেদের অর্থেই আজ পদ্মা ব্রিজ নির্মাণ করেছেন। এই বিশ্বব্যাংক একই সময়ে তাদের নিজেদের পলিসির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে কয়লা ভিত্তিক বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেও বাধা দিয়েছিলো। ২০১৩ সালের অক্টোবরে ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে এই নিয়ে আমাদের বেশ তর্ক-বিতর্ক হয়েছিলো। আমার এখনও মনে আছে, ঐ সভায় আমি তাদের দেখিয়ে দিয়েছিলাম বাংলাদেশে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক কীভাবে তাদের নিজেদেরই পলিসি’র ভূল ব্যাখ্যা দিচ্ছিল। শেখ হাসিনার সাহসী উদ্যোগ ও সফল কূটনীতির কারণে বাংলাদেশ যখন এই প্রকল্প গুলো স্থাপনে কয়েকটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেয়ে গেলো, তখন বিশ্বব্যাংক ইউ-টার্ন নিয়ে এদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা করতে আবার ফিরে আসলো। আমার কাছে মনে হয়েছে, বিশ্বব্যাংক অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সকল পদক্ষেপ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত । মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে লবিইস্টদের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই কাজ গুলো করা হয়েছিলো।

২০১৬ সালের অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে একই মঞ্চে বসে বাংলাদেশের যে প্রশংসা করেছিলেন তার মর্মার্থ হচ্ছে, আর্থ-সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশকে মডেল হিসেবে অনুসরণ করতে পারে। তার বক্তব্যে মনে হয়েছে, আর্থ সামাজিক সকল সূচকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র। উক্ত অনুষ্ঠানে দর্শক হিসেবে আমিও উপস্থিত ছিলাম। মঞ্চে উপবিষ্ট রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সেদিন তাঁর উপস্থিতি, ভাষণ, এমনকি তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে এটি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র- বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আজ বিশ্ব সভায় নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। ২০১৩ সালের অক্টোবরের ওয়াশিংটন সফরে আমি একটি বিষয় উদ্ঘাটন করেছিলাম যে, ড. ইউনুস মাসিক ফি’র ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে দুটো লবিইস্ট ফার্ম নিযুক্ত করেছিলেন যার কাজই ছিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ক্যাপিটেল হীল আর বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশ বিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করা। একই সময়ে বিএনপি এবং যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীও যুক্তরাষ্ট্রে লবিইস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণায় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল। স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনার আত্মবিশ্বাস, মনোবল আর সুদক্ষ নেতৃত্বের কাছে এসব কিছুই টেকেনি।

লেখক পরিচিতিঃ
ড. সেলিম মাহমুদ
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১